পবিত্র কোরআনের ধারাবাহিকতা
সূরা আস-সাজদাহ | আয়াত: ১৪-১৭ | পর্ব-৭৫০
এ পর্বে যা আছে:
স্বীয় প্রতিপালককে শাস্তির আশংকায় এবং সাওয়াব ও বিনিময়ের আশায় ডাকে আর তাহাদিগকে আমি যেই রিযক দান করিয়াছি উহা হইতে ব্যয় করে। তাহারা এমন সকল নেককাজও করে যাহার সম্পর্ক কেবল তাহাদের নিজ সত্তার সহিত জড়িত আর এমন নেককাজও করে যাহার সম্পর্ক অন্যের সহিত রহিয়াছে। এই সকল আল্লাহর পেয়ারা বান্দাগণের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অগ্রগামী ও উত্তম হইলেন মানবকুল শ্রেষ্ঠ ইহ-পরকালের গৌরব হযরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্ (সা)। হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন রাওয়াহা (রা) তাঁহার স্বরচিত কবিতায় এই বাস্তবকে তুলিয়া ধরিয়াছেন। আমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল বিদ্যমান, যিনি অতি প্রত্যুষেই তাঁহার পবিত্র কিতাব পাঠ করেন। গুমরাহীর চরম অন্ধকারের পরে তিনি আমাদিগকে হেদায়েতের আলো দেখাইয়াছেন। এখন আমাদের অন্তঃকরণ এই বিষয়ে নিশ্চিত যে, তিনি যাহা কিছু বলিয়াছেন উহা ঘটিবেই। রাত্রিকালে যখন মুশরিকরা গভীর নিদ্রায় বিভোর থাকে তখন তিনি শয্যাত্যাগ করিয়া আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটাইয়া থাকেন।
"ইমাম আহমাদ (র) বলেন, রাওহ ও আফফান (র) ..... হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন মাসউদ (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করিয়াছেন, "আল্লাহ তা'আলা দুই ব্যক্তির প্রতি বড়ই সন্তুষ্ট। এক ব্যক্তি হইল সে যে রাত্রিকালে মধুর নিদ্রা ত্যাগ করিয়া আশায় ও আশংকায় সালাতে দণ্ডায়মান হয়। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হইল সে যেই ব্যক্তি আল্লাহর রাহে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। কিন্তু যুদ্ধ করিতে করিতে শত্রু দ্বারা পরাজিত হলো। কিন্তু পরাজয়ের পর পলায়নের কারণে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট হইবেন ভাবিয়া আশা বুকে বাঁধিয়াও শংকিত হইয়া সে পুনরায় শত্রুর মুখোমুখি হইল। এবং রক্তপাত ঘটাইয়া শাহাদাত বরণ করিল।
তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার ফিরিস্তাগণকে বলেন, ফিরিস্তাগণ! তোমরা আমার এই বান্দার প্রতি দৃষ্টিপাত কর যে, কেবল আশা ও আশংকা করিয়া শাহাদাত বরণ করিল। ইমাম আবু দাউদ (র) 'জিহাদ' অধ্যায়ে মূসা ইব্ন ইসমাইল সূত্রে হাম্মাদ ইব্ন সালামাহ (রা) হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ (র) বলেন, আব্দুর রাজ্জাক (র) মু'আয ইব্ন জাবাল হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর সহিত একা ছিলাম। এক দিন প্রত্যুষেই আমি তাঁহার নিকট দিয়াই চলিতেছিলাম, এমন সময় তাঁহাকে আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে এমন শিক্ষা দিন, যাহা দ্বারা আমি বেহেশতে প্রবেশ করিতে সক্ষম হই এবং দোযখ হইতে দূরে থাকিতে পারি। তিনি বলিলেন, অতি বড় কাজ সম্পর্কে তুমি আমার কাছে জিজ্ঞাসা করিয়াছ। তবে আল্লাহ্ যাহার জন্য সহজ করিয়া দেন তাহার জন্য সহজ। আর সে কাজ হইল, আল্লাহর ইবাদত করিবে, তাঁহার সহিত শরীক করিবে না। সালাত কায়েম করিবে। যাকাত আদায় করিবে। মাহে রমযানের সাওম পালন করিবে ও হজ্জ করিবে। অতঃপর তিনি বলিলেন, কল্যাণের দ্বার সমূহের কথা কি তোমাকে বলিয়া দিব না? আর তাহা হইল, (১) সাওম ঢাল স্বরূপ, (২) সাদাকা গুনাহর অগ্নি নির্বাপিত করে। (৩) মধ্যরাত্রে সালাত আদায় করা। অতঃপর তিনি পাঠ করিলেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলিলেন, আমি কি তোমাকে দীনের চূড়া ইহার স্তম্ভ ও ইহার শিখর কি উহা বলিয়া দিব? আমি বলিলাম, জী হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বলিলেন, দীনের চূড়া হইল ইসলাম, ইহার স্তম্ভ হইল সালাত ও ইহার শিখর হইল আল্লাহর রাহে জিহাদ করা। জিহাদের মাধ্যমেই দীন সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলিলেন: ইহা কি আমি তোমাকে বলিয়া দিব না যাহা দ্বারা এই সকল বিষয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করা যায়। আমি বলিলাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি স্বীয় জিহ্বা ধরিয়া বলিলেন, তুমি এই ছোট্ট অংগটিকে নিয়ন্ত্রণ কর। অতঃপর আমি জিজ্ঞাসা করিলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের কথার কারণেও কি আমাদিগকে পাকড়াও করা হইবে? তিনি বলিলেন: "তোমার মাতা পুত্রের শোকে শোকাতুর হউক। মানুষকে কেবল তাহাদের মুখের কথাই তো দোযখে উপুড় করিয়া
নিক্ষেপ করা হইবে। ইমাম, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ (র) মা'মার (র) হইতে বিভিন্ন সূত্রে তাঁহাদের সুনান গ্রন্থে ইহা বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম তিরমিযী (র) ইহাকে হাসান সহীহ বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন। ইব্ন জরীর (র) ও শু'বা (র)-এর সূত্রে হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উরও জুবাইর (র)...... হযরত মু'আয ইবন জাবাল (রা) হইতে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি বলেন।

