পবিত্র কোরআনের ধারাবাহিকতা
সূরা-আল-সাবা | আয়াত: ০১-০৬ | পর্ব-৮৪০
অনুবাদ:
১. প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্ত কিছুরই মালিক এবং আখিরাতেও প্রশংসা তাঁহারই। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ব বিষয়ে অবহিত।
২. তিনি জানেন যাহা ভূমিতে প্রবেশ করে, যাহা উহা হইতে নির্গত হয় এবং যাহা আকাশ হইতে বর্ষিত ও যাহা কিছু আকাশে উত্থিত হয়। তিনিই পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল।
৩. কাফিররা বলে, আমাদের নিকট কিয়ামত আসিবে না। বল, আসিবেই। শপথ আমার প্রতিপালকের, নিশ্চয়ই তোমাদিগের নিকট উহা আসিবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁহার অগোচর নহে অণু পরিমাণ কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ; বরং ইহার প্রতিটি লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।
৪. ইহা এইজন্য যে, যাহারা মু'মিন ও সৎকর্মপরায়ণ, তিনি তাহাদিগক পুরস্কৃত করিবেন। ইহাদিগেরই জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযক।
৫. যাহারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করিবার চেষ্টা করে তাহাদিগের জন্য রহিয়াছে ভয়ংকর মর্মন্তুদ শাস্তি।
৬. যাহাদিগকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে তাহারা জানে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা সত্য। ইহা মানুষকে পরাক্রমশালী ও প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ নির্দেশ করে।
তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন, ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসার অধিকারী তিনি-ই। কারণ পৃথিবীর জনমানবের ওপর তিনিই অনুগ্রহ করেন এবং পরকালেও তিনিই অনুগ্রহ করিবেন। ইহকাল ও পরকালে তিনিই হুকুমতের অধিকারী। যেমন ইরশাদ হইয়াছে: তিনিই আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নাই। ইহকাল ও পরকালে তিনিই সমস্ত প্রশংসার অধিকারী। তিনিই হুকুমতের অধিকারী। তাহার নিকট তোমাদিগক প্রত্যাবর্তন করা হইবে।
এইজন্যই ইরশাদ হইয়াছে: সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু অবস্থিত এবং যাহা কিছু ভূমণ্ডলে বিদ্যমান সব কিছুরই তিনি মালিক। অর্থাৎ সকল বস্তুর মালিক তিনিই, সকলেই তাহার দাস এবং সকলের ওপর তাহারই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। আর পরকালেও প্রশংসা তাহারই জন্য। তিনি চির উপাস্য চির প্রশংসিত। আর তিনি প্রজ্ঞাময়। তাহার কথায়, কাজে ও নির্ধারণে তাহার প্রজ্ঞার অন্ত নাই। তিনি তাহার সৃষ্টিজগৎ সম্বন্ধে অবহিত, কোন বস্তুই তাহার নিকট গোপন নহে। কোন কিছুই তাহার অদৃশ্যে নহে। ইমাম মালিক (র) ইমাম যুহরী (র) হইতে বর্ণনা করেন, এর এই অর্থ তিনি তাঁহার সৃষ্টি জগত সম্বন্ধে বহু নির্দেশে প্রজ্ঞাময়।
ইরশাদ হইয়াছে: ভূমিতে যাহা কিছু প্রবেশ করে তাহাও তিনি জানেন আর তাহাও তিনি জানেন যাহা ভূমি হইতে নির্গত হয়। অর্থাৎ আসমান হইতে যে কত ফোটা বৃষ্টি ভূমিতে প্রবেশ করে আল্লাহ্ তাহার সংখ্যা জানেন। আর ভূমি হইতে যে শস্য নির্গত হয় তাহার সংখ্যাও তিনি জানেন। উৎপন্ন বস্তুসমূহের গুণাবলীও তাহার অজানা নয়। আর যাহা আসমানে আরোহণ করে। অর্থাৎ মানুষের যে কোন আমল আকাশে উত্থিত হয় এবং আরো যাহা কিছু আছে সবই তিনি জানেন।
আর তিনি পরম দয়ালু, বড়ই ক্ষমাশীল। যেহেতু তিনি তাঁহার বান্দাদিগের প্রতি পরম দয়ালু, অতএব তাহাদের মধ্যে যাহারা অপরাধী তাহাদিগক শাস্তি দানে তিনি ব্যস্ত হন না। আর যেহেতু তিনি পরম ক্ষমাশীল অতএব যাহারা তাওবা করে আর যাহারা তাঁহার ওপর ভরসা করে তাহাদের গুনাহ তিনি ক্ষমা করিয়া দেন।

