পবিত্র কোরআনের ধারাবাহিকতা
সূরা আল-কাসাস | আয়াত: ৬৬-৭০ | পর্ব-৭৭৪
অনুবাদ:
৬৬. সেদিন সংবাদসমূহ তাহাদিগের নিকট বিলুপ্ত হইবে এবং তাহারা একে অপরের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে না।
৬৭. তবে যে তাওবা করিয়াছিল এবং ঈমান আনিয়াছিল ও সৎকর্ম করিয়াছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৬৮. তোমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, ইহাতে তাহাদিগের কোন ইখতিয়ার নাই। আল্লাহ্ পবিত্র এবং তাহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার বহু উর্ধ্বে।
৬৯. তোমাদিগের প্রতিপালক জানেন যাহা তাহাদিগের অন্তর গোপন রাখে এবং যাহা তাহারা প্রকাশ করে।
৭০. তিনিই আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। ইহকাল ও পরকাল সমস্ত প্রশংসা তাঁহারই। বিধান তাঁহারই এবং তাঁহার নিকটই তোমরা প্রত্যানীত হইবে।
তাফসীর:
আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন যখন কাফির-মুশরিকদের নিকট তাহাদের কৃতকর্মের কারণ জিজ্ঞাসা করা হইবে, তখন তাহারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িবে। সত্য সংবাদ বা সঠিক উত্তর দেওয়ার মত কোন ভাষা সেদিন তাহাদের থাকিবে না। এমনকি আতঙ্কে তাহারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাও করিতে পারিবে না।
পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ্ ক্ষমার পথ দেখাইয়াছেন: যদি কেহ সময় থাকিতে তাওবা করে, খাঁটি মনে ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তবে সে সফলকাম হইবে। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁহার সৃষ্টিজগতে যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা নবুওয়াত বা বিশেষ মর্যাদার জন্য মনোনীত করেন। এতে মানুষের কোন হাত নাই। মুশরিকরা আল্লাহ্র সাথে যাহাদের শরীক করে, আল্লাহ্ সেই সব হইতে সম্পূর্ণ পবিত্র।
আল্লাহ্র সার্বভৌমত্ব ও জ্ঞান: মানুষের অন্তরে লুকায়িত কুচিন্তা বা পরিকল্পনা এবং প্রকাশ্যে বলা কথা—সবই আল্লাহ্ জানেন। তিনিই একমাত্র ইলাহ্। দুনিয়া ও আখিরাতে সকল প্রশংসা কেবল তাঁহারই প্রাপ্য। সকল সৃষ্টিকে শেষ পর্যন্ত বিচার ও হিসাবের জন্য তাঁহার নিকটেই ফিরিয়া যাইতে হইবে।

